ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির সমাবেশ

পথে পথে বাধা, তবুও লাখো মানুষের ঢল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির সমাবেশ

ডেস্ক রিপোর্ট
বিসিবিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপির সমাবেশ হয়েছে। এ নিয়ে গত দু’দিন ধরে টানটান উত্তেজনা ছিল শহরে। গত শুক্রবার দুপুরে বিএনপি’র ৩ নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। এরপর ওইদিন সন্ধ্যায় গোটা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। আর শনিবার ভোর থেকে শহরে ৫ শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বন্ধ থাকে বাস চলাচল। সমাবেশে যোগ দিতে আসা নেতাদের পথে পথে বাধা দেয়া হয়। শেষমেষ সদর উপজেলার নাটাই ইউনিয়নের বটতলীতে বিএনপির এই সমাবেশ হয়। এতে অংশ নেয় লাখো মানুষ।

নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির আলোচনাকে আগামী নির্বাচনে ভোট চুরির একটি প্রক্রিয়ার অংশ বলে মন্তব্য করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, বর্তমান অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশ থেকে নিষেধাজ্ঞা আসছে। যারা ভোটচুরি, গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত, গণতন্ত্র ও বাক স্বাধীনতা হরণের সঙ্গে জড়িত তারা সবাই দেশে-বিদেশে পর্যবেক্ষণে আছেন।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের।

আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ও সাবেক প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ একে একরামুজ্জামান প্রমুখ।

শনিবার বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের বটতলী বাজারে এই সমাবেশে কয়েকশ’ নেতাকর্মী যোগ দেন। তবে শহর থেকে বটতলী যাওয়ার মুখে বিরাশার মোড়ে অবস্থান নেয় পুলিশ।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে দেয়ার দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি। সমাবেশটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের ফুলবাড়িয়া কনভেনশন সেন্টারের সামনে হওয়ার কথা ছিল। তবে ওই স্থানে একই সময়ে জেলা ছাত্রলীগও ছাত্র সমাবেশ ডাকে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকায় শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন।

এরপর শহরের ৫০টির বেশি পয়েন্টে শনিবার ভোর থেকে ৫ শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন ধরনের বাস চলাচল বন্ধ থাকে।

এরআগে শুক্রবার দুপুরের পর পুলিশ জেলা বিএনপির ৩ নেতা জিল্লুর রহমান, জহিরুল হক খান ও সিরাজুল ইসলামকে আটক করে।

সমাবেশে যোগ দিতে আসা কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন স্থানে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। ভৈরব ও আশুগঞ্জে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তারা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিএনপি নেত্রী রুমিন ফরহানা আশুগঞ্জের উজানভাটি হোটেলে পৌঁছেন। এর আগে পুলিশ আশুগঞ্জে ঢোকার মুখে বাধা দেয় তাকে। অন্যান্য নেতারা ভৈরবে জান্নাত হোটেলে অবস্থান করতে থাকেন এই সময়ে।

আলোচিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এখন নাকি আলোচনা শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপতি আলোচনা শুরু করেছেন। কীসের আলোচনা? যারা ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ তে ভোটচুরি করেছে- সেই চক্র আগামী নির্বাচন ভোট কীভাবে চুরি করবে সেই আলোচনা চলছে। এই আলোচনাটা মূ্‌লত হচ্ছে আগামী নির্বাচনের ভোট চুরির একটা প্রক্রিয়ার অংশ। এই চোরদের সঙ্গে আরও কিছু ছেচড়া চোরও আছে। দেশের মানুষ নিবিড়ভাবে এই চোরদের পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি বলেন, চোরদের বলতে চাই- সেই পথ থেকে সরে আসুন। বাংলাদেশ জেগে উঠেছে। কথায় আছে চোরের দশদিন আর গৃহস্থের একদিন। এই দশদিন পার হয়ে গেছে। এখন চোর ধরতে হবে। যেখানেই এই চোরদের দেখবেন- জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। এদের বলবেন তুই চোর-ভোট-চোর। এদেরকে সামাজিকভেবে বয়কট করতে হবে।

তিনি স্থানীয় প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশে কী হচ্ছে বুঝার চেষ্টা করেন। চোখ-কান খোলা রাখেন। সারাবিশ্ব আজ বাংলাদেশকে বোঝার চেষ্টা করছে। দেশকে মুক্ত করতে জনগণ প্রস্তুতি নিয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের কাজ হচ্ছে প্রতিটি অঞ্চল, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডে এই জোয়ারে জনগণকে সম্পৃক্ত করা।

এই পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।