ইউক্রেন যুদ্ধে পিছু হটা

পুতিন কী ক্ষমতায় টিকতে পারবেন?

পুতিন কী ক্ষমতায় টিকতে পারবেন?

বিশ্ব ডেস্ক
বিসিবিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা বন্ধে শান্তি আলোচনা চলমান থাকলেও যুদ্ধ অবসানের কোনো ইঙ্গিত নেই। দেশটির শহরগুলোতে মস্কোর ছোড়া বোমার সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে রাশিয়ার ওপর নীরব চাপ; যা দেশটিকে ক্রমশ বিশ্বমঞ্চ থেকে বিচ্ছিন্ন করছে। আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় জারি করা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এরই মধ্যে টের পেতে শুরু করেছে রাশিয়া; বাড়ছে ভিন্নমত। যা দমনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কর্তৃপক্ষ। এই ভিন্নমত ক্রেমলিনের অন্দরমহলেও দেখা দিয়েছে। তাই যুদ্ধ যত প্রলম্বিত হচ্ছে, ততই প্রশ্ন উঠছে- প্রেসিডেন্ট ভদ্মাদিমির পুতিনের অবস্থান কি তাহলে নড়বড়ে হয়ে যাছে!

আলজাজিরার এক বিশ্নেষণে সেসব প্রশ্নের উত্তর তুলে ধরা হয়েছে।

রুশ এমপিদের মধ্যে পুতিনের দৃঢ় মাত্রার সমর্থন রয়েছে। অভিযানের আগে ইউক্রেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি সংক্রান্ত ভোটাভুটিতে তার সমর্থনে তা প্রমাণিত হয়েছে। পার্লামেন্ট ডুমার ৪৫০ জন সদস্যের মধ্যে ৩৫১ এমপি এই পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নেন। তবে এ সময়ে পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির বিরুদ্ধের ভোট জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি ক্ষমতায় রয়েছেন ভোট জালিয়াতি করে। এ অবস্থায় কয়েকজন বিশ্নেষক ইঙ্গিত দেন, নিষেধাজ্ঞায় ব্যাপক সংকটে রয়েছে রুশ অর্থনীতি; যা পুতিনকে ক্ষমতা থেকে সরানোর উদ্যোগকে নতুন গতি দিতে পারে।

সোভিয়েত পরবর্তী সময়ের রুশবিপ্লব নিয়ে গবেষণা করা ইউক্রেনীয় সমাজবিজ্ঞানী ভলোদিমির ইশচেঙ্কো এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না এসব নিষেধাজ্ঞার ফলে বিপ্লব ঘটে যাবে।’

তিনি দাবি করেন, ‘ক্রমবর্ধমান অভিযোগ একটি বিদ্রোহের সূত্রপাতের জন্য যথেষ্ট নয়। বরং অভিজাতদের মধ্যে ভাঙন, বিরোধীদের ঐক্য, সমন্বয় ও পরিচালনার কাঠামো প্রয়োজন।’

ইশচেঙ্কো বলেন, বিরোধীরা এখন ভালো অবস্থানে নেই। নাভালনির গতিবিধি ‘দমন’ করা হয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধ নিয়ে বিরোধীপক্ষ এখন বিভক্ত। কমিউনিস্ট ও অন্য যেসব দল বিরোধীদের মিত্র বলে দাবি করতো, তারা এখন দৃঢ়ভাবে যুদ্ধের সমর্থন জানাবে।

তিনি বলেন, বিপ্লবের চেয়ে প্রাসাদ অভ্যুত্থানের সুযোগ অনেক বেশি। যদিও পুতিনের বিরুদ্ধে অভিজাতদের এমন ষড়যন্ত্র করা সম্ভব বলে আমি নিশ্চিত নই। ইউক্রেনে বড় ধরনের পরাজয়ের আগে তারা এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে বলে মনে হয় না।

তাই শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রের ভারসাম্য অভ্যুত্থান বা বিপ্লব কিংবা পুতিনের শাসনে টিকে থাকা ও সংহতকরণ নির্ভর করবে। এছাড়া কোনো উপায় নেই।

যদি গণবিক্ষোভ দেখা না দেয়, হয়তো রুশ ধনকুবের ও পুতিনের ঘনিষ্ঠ মহল নিষেধাজ্ঞায় হতাশ এবং নিজেদের বিলাসবহুল রণতরীতে আনন্দ করতে না পারা ব্যক্তি হয়তো প্রেসিডেন্টকে উৎখাতের চেষ্টা করতে পারেন।

রাশিয়ার স্বতন্ত্র সাংবাদিক ফারিদা রুস্তামোভা জানান, প্রাথমিক ধাক্কার পর রুশ অভিজাতরা বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন। কিছুই করা যাবে না বলে এক ধরনের মনোভাব বিরাজ করছে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের টিকে থাকতে হবে। তাদের চলে যাওয়ার সুযোগ নেই। রুস্তামোভা বলেন, রুশ অভিজাতদের মধ্যে মুক্তমনা অংশে যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের প্রত্যাশা করা যৌক্তিক। কিন্তু পুতিন সম্প্রতি নিবিড়ভাবে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে তাদের লাগাম হাতে রেখেছেন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রুশ সশস্ত্র বাহিনী বিশেষজ্ঞ পাভেল লুজিন বলেন, রাজনৈতিক একটি অংশ রয়েছে যাতে কয়েকজন জেনারেল ও পুতিন ঘিরে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন। তারা রুশ সাম্রাজ্য পুনঃস্থাপনে বিশ্বাস করেন। এটি তাদের কাছে ধর্মের মতো। জনগণের ক্ষমতা দখল বাদ দিয়ে ব্যবসায়ীদের বিদ্রোহ বা সামরিক অভ্যুত্থানের শঙ্কা রয়েছে। যুদ্ধে রাশিয়ার সামাজিক ও আর্থিক দুর্ভোগ বাড়ায় সাবেক কর্মকর্তা ও আমলারা পুতিনের সমালোচনায় সামনে আসতে পারেন।

লুজিনের কথায়, সংক্ষেপে বললে পুতিন নিজেকে শাসন পরিচালনা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন। ফলে আমলাতন্ত্র হয়তো তাকে অগ্রাহ্য করে কাজ শুরু করে দিতে পারে। যদি এমন কিছু বাস্তবে ঘটে তাহলে অভ্যুত্থান ছাড়াই রাশিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।

এই পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ