তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া অন্য কিছুই ভাবছে না বিরোধীরা!

৩০ ডিসেম্বরে মধ্যে সাংগঠনিক পুনর্গঠন শেষ করার নির্দেশ দিলেন তারেক রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট
বিসিবিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি রয়েছে বছর দেড়েক। এরই মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। আসন্ন নির্বাচনে তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের। বিগত নির্বাচনগুলো নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ ছিল বিস্তর। এসব অভিযোগের কারণে নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বন্ধু রাষ্ট্রগুলোও নানা সময়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

এই অবস্থায় সামনের জাতীয় নির্বাচন কেমন হবে এই প্রশ্ন সবার সামনে। গত শনিবার আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধান বিরোধী দল বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচনে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে ওই বৈঠকে। এছাড়াও আগামী জাতীয় নির্বাচন পুরোটাই ইভিএমে করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

সরকারের এই মনোভাবের বিষয়ে বিরোধী দলগুলো অবশ্য নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তারা বলছে- আওয়ামী লীগের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না তারা। সরকার পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা দেয়ার পরই নির্বাচনের বিষয়ে চিন্তা করবেন তারা।

রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। এছাড়া সমমনা আরও কয়েকটি দলের নেতারাও প্রায় অভিন্ন ভাষায় জানিয়েছেন, আগে তত্ত্বাবধায়ক, পরে নির্বাচনের চিন্তা।

তারা বলছেন, এই সরকারের প্রতি জনগণের কোনো আস্থা নেই। বর্তমান সরকারের অধীনে একাধিকবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু কখনোই সেটা গ্রহণযোগ্য হয়নি। সরকারকে দাবি মেনে পদত্যাগ করতে হবে। দাবি মানা না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে। এজন্য নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, যতক্ষণ না আওয়ামী লীগ সরকার পদত্যাগ করে, ততক্ষণ পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে আলোচনার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তারা (আওয়ামী লীগ) সুন্দর সুন্দর কথা বলে, দেখলে মনে হয়, এদের মতো ভালো মানুষ আর নেই। অথচ তারা ভেতরে-ভেতরে যা করার তা করে। আমি মনে করি, কোনো কথাই হবে না যতক্ষণ না আওয়ামী লীগ সরকার পদত্যাগ করে। পরবর্তী নির্বাচন সম্পর্কে আমাদের কথা পরিষ্কার, আওয়ামী লীগ সরকার পদত্যাগ না করলে, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করলে, নির্বাচনের কোনো প্রশ্নই উঠতে পারে না। আর ইভিএম তো পরের কথা।

বিএনপি নেতারা জানান, এই সরকারের অধীনে আগামীতে নির্বাচনে যাওয়া মানে বিএনপির রাজনৈতিক আত্মহত্যা। তাই বর্তমান সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচন নয়। নিরপেক্ষ সরকারের দাবি পূরণের জন্য সারাদেশে আন্দোলন করতে হবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচনে গেলে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের মতো একই পরণতি ভোগ করতে হবে। তাই নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার দাবির পক্ষে সরকার বিরোধী যেসব রাজনৈতিক দল রয়েছে, তাদের একই প্ল্যাটফরমে আনতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবির পক্ষে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এজন্য দলের কূটনৈতিক উইংকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এখন বিএনপির স্লোগান হচ্ছে ‘শেখ হাসিনার বদলে কেয়ারটেকার, ইভিএমের বদলে ব্যালট পেপার’। আগে এই সরকারকে যেতে হবে। তারপরে ইভিএমও বাদ দিতে হবে। সরকার এবং ইভিএমকে বিদায় করে দেশের মানুষ যাতে ভোট দিতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এটা যদি এমনিতে না হয় তাহলে আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করতে হবে। এই বিষয়ে আপস করার কোনো সুযোগ নেই।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ইভিএম দিয়ে ভোট করা মানে চুরিটাকে আরও পাকাপোক্ত করা। ইভিএম হচ্ছে ভোট চুরির একটা বড় মাধ্যম। ইভিএমের মাধ্যমে যতবারই ভোট হয়েছে কোনোটারই তো অভিজ্ঞতা ভালো না। শেখ হাসিনাকে রেখে নির্বাচন করে কোনো লাভ নেই। মোটকথা এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনেই অংশ নেবে না বিএনপি।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ইভিএম সারাবিশ্বেই প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ভারতবর্ষে এটা নিয়ে কি বিরাট কাণ্ডই না ঘটে গেল। ইভিএম হচ্ছে মানুষের তৈরি একটা মেশিন। এটাকে যেভাবে নির্দেশনা দেয়া হবে সেভাবেই কাজ করবে। আমি ভোট দিবো একটাতে আর চলে যাবে আরেকটাতে। এই কাজটা অতি সহজেই করা যায়। আর এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনেই তো আমরা অংশ নেবো না। আগে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে তারপর বাকি সব।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, আমরা আগেই বলেছি এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে অংশ নেয়া হবে না। আর জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করার কোনো পরিস্থিতি বাংলাদেশে নেই। এই ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো বোঝাপড়া ছাড়া বা গোটা ইভিএম পদ্ধতির বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা ছাড়া এটা ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের কোনো তৎপরতাকে আমরা বিরোধিতা করছি। এমনিতে নির্বাচন নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে, সমালোচনা রয়েছে। সেখানে ইভিএম যুক্ত করার পাঁয়তারা মানুষ এটাকে ভালোভাবে নিবে না। ইভিএমে ভোট করা ডিজিটাল কারচুপির অগ্রিম পাঁয়তারা কিনা সে ব্যাপারে মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে।

এই পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।