আনুষ্ঠানিকতা শুরু পবিত্র হজের

আনুষ্ঠানিকতা শুরু পবিত্র হজের

ডেস্ক রিপোর্ট
বিসিবিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম

‘লাব্বাইক আল্লাহুমা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে পবিত্র মক্কা থেকে হজযাত্রীরা যাত্রা শুরু করেছেন তাঁবুর শহর বলে পরিচিত ঐতিহাসিক মিনায়। বুধবার তারা পবিত্র মক্কায় ক্বাবা শরীফ তাওয়াফ করেন। এর মধ্যদিয়ে শুরু হয়ে গেছে এবার পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা।

করোনা মহামারির কারণে গত দুইবছর পবিত্র হজে ছিল নানা বাধ্যবাধকতা। তবে এবার অনেকটা মুক্ত অবস্থায় পালিত হচ্ছে হজ। তাই হজযাত্রীদের মধ্যে অন্যরকম এক আবেগ কাজ করছে। তারা মুখে মাস্ক ছাড়াই হজ করতে পারছেন।

করোনা ভাইরাসের অনুমোদিত টিকার সম্পূর্ণ ডোজ নিয়েছেন এমন ১০ লাখ হজযাত্রী হজ পালন করছেন। এদের মধ্যে ৮ লাখ ৫০ হাজার হজযাত্রী বিদেশি। বাকিরা সৌদি আরবের নাগরিক।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে যাওয়া এসব হজযাত্রী বুধবার সমবেত হন কাবা শরীফে। সেখানে পবিত্র কাবাকে তাওয়াফের মাধ্যমে তারা এবারের হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছেন।

তারপর গত রাত থেকেই তারা মিনার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। অনেকে এরই মধ্যে পৌঁছে গেছেন। বাকিরা আজ সেখানে সমবেত হবেন। পবিত্র মিনায় নিজ নিজ তাঁবুতে অবস্থান করে সারাদিন ও বৃহস্পতিবার রাতে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন। এরপর শুক্রবার ফজরের নামাজ আদায় করে তারা রওনা দেবেন আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশ্যে।

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা চলে ৫ দিন ধরে। তার মধ্যে আরাফাতের দিবসকে ধরা হয় মূল হজ হিসেবে। মিনা থেকে এদিন ভোর থেকেই হজযাত্রীরা লাব্বাইক আল্লাহুমা লাব্বাইক ধ্বনিতে আরাফাতের ময়দানে সমবেত হবেন। তাদের সমস্বরে উচ্চারিত ‘লাব্বাইক আল্লাহুমা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হবে আরাফাতের আকাশ বাতাস। ইবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন। দুপুরে হজের খুৎবা শুনবেন। তারপর এক আযানে হবে জুমা ও আসরের নামাজ। সূর্যাস্তের পর হজযাত্রীরা আরাফাতের ময়দান ত্যাগ করে যাত্রা করবেন মুজদালিফার উদ্দেশ্যে। সেখানে আবার তারা এক আযানে আদায় করবেন মাগরিব ও এশার নামাজ।

তারপর পাথর সংগ্রহ করবেন জামারায় প্রতীকী শয়তানকে নিক্ষেপের জন্য। এদিন রাতে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করবেন তারা। তারপর শনিবার সকালে সূর্যোদয়ের পর পাথর নিক্ষেপ করবেন হজযাত্রীরা। এরপর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু কোরবানি করবেন। কোরবানি করে মাথা মুণ্ডন করবেন। এহরাম খুলে পরবেন সাধারণ পোশাক। আবার কাবাঘর তাওয়াফ করবেন। সাফা-মারওয়ায় সাতবার চক্কর দেবেন। এরপর আবার ফিরে যাবেন মিনায়।

উল্লেখ্য, পরপর দুই বছর খুবই সীমিত সংখ্যক হাজী হজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। তারপর এবারই প্রথম বড় আয়োজনে হজ পালিত হচ্ছে। এর আগে ২০১৯ সালে হজে প্রায় ২৫ লাখ হজযাত্রীর সমাবেশ হয়েছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসলমানরা এই বার্ষিক হজ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন।

এই পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।