জামায়াত ছাড়লো বিএনপির জোট

জামায়াত ছাড়লো বিএনপির জোট

ডেস্ক রিপোর্ট
বিসিবিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ‘ছেড়েছে’ শরিক দল জামায়াতে ইসলামী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানকে বলতে শোনা গেছে, তার দল বিএনপির জোটে নেই। বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করেই জোট ছেড়েছে।

এদিকে জামায়াত নেতারা বলেছেন, দলীয় প্রধানের বক্তব্য ঘরোয়া অনুষ্ঠানের। জামায়াত জোট ছাড়েনি। বিএনপি নেতারাও জামায়াতের জোট ‘ত্যাগের’ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না। তবে আওয়ামী লীগ বলেছে, জামায়াত জোট ছাড়ায় বিএনপির বড় উইকেট পতন হয়েছে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে অবশ্য ওই ভিডিওটির সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে। দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারনী ফোরাম নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি হিসেবে মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা মতিউর রহমান আকন্দ গণমাধ্যমকে বলেন, জামায়াত আমিরের বক্তব্য অনানুষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত। জামায়াত জোট ছাড়েনি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতের জোট ‘ছাড়ার’ বক্তব্যের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি। মন্তব্য করেননি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খানও।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান বলেছেন, বিএনপির বড় উইকেট পড়ে গেছে। জামায়াতে ইসলামী বলেছে, বিএনপির সঙ্গে তারা আর নেই।

১৯৯৯ সালে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত ও ইসলামী ঐক্যজোট চারদলীয় জোট গঠন করে। ২০১২ সালে ওই জোট সম্প্রসারিত হয়ে ২০ দলীয় জোটে পরিণত হয়। তবে ২০১৫ সালের ব্যর্থ আন্দোলনে পর দুই দলের কোনো যৌথ কর্মসূচি নেই। তারপরও ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে জোট করেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে বিএনপি-জামায়াত। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হন নিবন্ধন হারানো জামায়াতের নেতারা। তবে নির্বাচনের পর আবারও দুই দলের দূরত্ব তৈরি হয়। গত সাড়ে তিন বছর ধরে জোটের কোনো কর্মসূচি নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে জামায়াতের আমিরকে বলতে শোনা যায়, বছরের পর বছর পর ধরে এই ধরনের অকার্যকর জোট চলতে পারে না।

বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টানার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এতোদিন একটা জোটের সঙ্গে ছিলাম। ছিলাম শুনে আপনারা হয়ত ভাবছেন, কিছু হয়ে গেছে নাকি? হয়ে গেছে। ২০০৬ সাল পর্যন্ত এটি একটি জোট ছিলো। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর জোট তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। সেদিন বাংলাদেশ পথ হারিয়েছিল। সেটা আর ফিরে আসেনি।’

জোটের অকার্যকারিতার জন্য বিএনপিকে দায়ী করেছেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, প্রধান দলের জোটকে কার্যকর করার চিন্তা নেই। … এখন বাস্তবতা হচ্ছে, নিজস্ব অবস্থান থেকে আল্লাহর উপর ভর করে পথ চলা। তবে হ্যাঁ, জাতীয় স্বার্থে একই দাবিতে যুগপৎ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করব।

বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করেই জোট ছেড়েছেন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, তারা (বিএনপি) আমাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেছি, এর সাথে (জোট ভাঙা) তারা ঐকমত্য পোষণ করেছে। তারা আর কোনো জোট করবে না। এখন যার যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করে যাবো।

এদিকে মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বৈঠকে জোট ছাড়ার ব্যাপারে আলোচনা করেনি। সিদ্ধান্তও নেয়নি।

দলীয় প্রধানের বক্তব্যই দলের বক্তব্য হওয়া উচিত জানিয়ে মতিউর রহমান বলেছেন, জামায়াত আমির হিসেবে যখন তিনি কোনো বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন, সেই বৈঠকের বক্তব্য হবে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য। জামায়াত আমির কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে যদি কোনো না কথা বললে, সেটা কী দলীয় বক্তব্য হয়ে যাবে! জোট গঠিত হয়েছিল, বৈঠক করে, সংবাদ সম্মেলন করে, জাতির সামনে। জোট ভাঙলে, একই প্রক্রিয়ায় ভাঙবে।

এই পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।