কক্সবাজার সদর ইউএনওর বিরুদ্ধে মামলা করলেন এক মহিলা এনজিওকর্মী

Mamtaz Safina Azim

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার
বিসিবিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচএম মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, হাজতে দেয়ার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ঘুষ গ্রহণ ও সাদা কাগজে স্বাক্ষর আদায় ও মামলায় আসামি করে কারারুদ্ধ রাখার হুমকি দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন এক বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) সমন্বয়কারি ও সমাজকর্মী মমতাজ সফিনা আজিম। এই সব অভিযোগ তুলে ওই মহিলা এনজিও কর্মী কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে সদর ইউএনওর বিরুদ্ধে দুর্ণীতি দমন আইনে ফৌজদারি দরখাস্তও করেছেন। আগামি ২০ নভেম্বর ওই ফৌজদারি দরখাস্তের বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ ও পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দিনধার্য্য রয়েছে।

শনিবার (১৬ নভেম্বর) কক্সবাজার শহরের একটি রেষ্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন মমতাজ সফিনা আজম। তিনি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘সমাজ কল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থার (স্কাস) কক্সবাজারস্থ সমন্বয়কারি ও বৃহত্তর জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নুরুল আজিম চৌধুরীর মেয়ে।

তিনি মামলা ও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, তার সংস্থা ‘স্কাস’ কক্সবাজার সদর উপজেলা ও পেকুয়া উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে ভিজিডি’র টাকা সুবিধাভোগীদের বিলি করার দায়িত্বে রয়েছে। সংস্থাটি ভিজিডি’র টাকা বিলিকালিন সুবিধাভোগীদের জনপ্রতি ২০০ টাকা হারে সঞ্চয় হিসেবে রাখে। পরে তা বিলি করে দেয়া হয়। বিলির পর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ প্রত্যয়নপত্র নিতে হয়।

তিনি দাবি করেন, একই পদ্ধতিতে এনজিও ‘স্কাস’ সদর উপজেলাধীন পিএমখালী ইউনিয়নে ভিজিডি’র টাকা বিলি-বন্টনের পর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করেন। পরে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম মাহফুজুর রহমানের কাছে প্রত্যয়নপত্রের যান। গত ১৭ অক্টোবর সদর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে তাকে (মমতাজ সফিনা আজিম) বকাবকি ও দুর্ব্যবহার করতে থাকেন ইউএনও মাহফুজুর রহমান। তাকে বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে ‘আটকে রেখে’ ৩ লাখ ঘুষ দাবি করেন। পরে পুলিশের ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে বাধ্য করেন। অবশিষ্ট টাকা ৩ দিনের মধ্যে দেয়ার জন্যও নির্দেশ দিয়ে রাখেন। ওই সময় অলিখিত সাদা কাগজে এনজিও সংস্থার সমন্বয়কারি হিসেবে তার স্বাক্ষর গ্রহণ করেন।

মমতাজ সফিনা আজিম গত ৭ নভেম্বর কক্সবাজার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি রুজু করেন। কিন্তু বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ জাকারিয়ার অসুস্থতার কারণে ওইদিন ফৌজদারি কার্যবিধির ২০০ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করা সম্ভব হয়নি। আগামি ২০ নভেম্বর সেই মামলার ধার্য্য তারিখ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মমতাজ সফিনা আজিম দাবি করেন, ওই মামলাটি দায়েরের পর থেকে ইউএনও মাহফুজুর রহমান ‘কিছু দালাল ও সন্ত্রাসি’ পাঠিয়ে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দিয়ে যাচ্ছেন। ওই দালাল ও সন্ত্রাসিরা ইউএনও পক্ষ হয়ে তাকে (মমতাজ সফিনা) হত্যার হুমকি ও তার ছেলেদের জানমালের ক্ষতি করার হুমকি দিচ্ছে।

তিনি এ ব্যাপারে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জনপ্রশাসন মন্ত্রী, সচিব, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো. কামাল হোসেনের সুনজর ও প্রতিকার দাবি করেছেন।

তবে এ ব্যাপারে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচএম মাহফুজুর রহমানের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ