হঠাৎ কালবৈশাখী, পানিতে মিশে গেল উৎপাদিত লবণ

হঠাৎ কালবৈশাখী, পানিতে মিশে গেল উৎপাদিত লবণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, মহেশখালী (কক্সবাজার)
বিসিবিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম

হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে মহেশখালীর লবণ মাঠের চিত্র। একই সাথে কালবৈশাখী ও দমকা হাওয়ায় নুইয়ে পড়েছে বোরো ধানের ক্ষেত। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে চাষিদের।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ৮টায় কক্সবাজারসহ বিস্তীর্ণ উপকূলে ঝড়ো হাওয়া ও কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে উপকূলের লবণের মাঠ। একদিকে লবণের মূল্য নেই, অন্যদিকে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ে থেমে গেছে লবণ উৎপাদন।

মহেশখালীর উপকূলজুড়ে কর্মব্যস্ত লবণ চাষীরা জানান, হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও কালবৈশাখীর কারণে মুহূর্তের মধ্যে জমিতে থাকা লবণ মাটির সাথে মিশে যায়। তাছাড়াও বেশ কিছু স্থানে লবণ মজুদ করার সময় বৃষ্টির কারণে তারা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অপরদিকে মহেশখালীর অধিকাংশ স্থানে বর্তমানে বোরো ধান কাটার মৌসুম। হঠাৎ প্রবল বেগে প্রবাহিত কালবৈশাখীতে তারাও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা সালাহ উদ্দীন বলেন, ‘এই বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে তেমন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ যখন ধানের মধ্যে ফুল আসে, তখন যদি বাতাস প্রবাহিত হয় তখন ক্ষতি হয় প্রচুর।’

তবে পাকা ধান কাটার আগে কালবৈশাখী ঝড়ে ধান মাটিতে পড়ে যাওয়ায় কিছুটা ক্ষয়ক্ষতি তো হয়েছে, বলেন তিনি।

এদিকে মহেশখালীর কালারমারছড়া, মাতারবাড়ি, ধলঘাটা, কুতুবজোম, হোয়ানক, বড় মহেশখালী, শাপলাপুর, ছোট মহেশখালী ও গোরকঘাটায় লবণ চাষ হয়ে থাকে।

বড় মহেশখালীর লবণ চাষী মোঃ ইউসুফ বলেন, ‘হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও কালবৈশাখী শুরু হওয়ায় মাঠের অধিকাংশ লবণ মাটির সাথে মিশে যায়। আমরা লবণ মাঠে আসার আগেই কালবৈশাখীর তান্ডবে লবণ উৎপাদনের পলিথিন ছিঁড়ে যায়। আমাদের ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।’

মাতারবাড়ির হন্দ্রারাবিলের লবণ চাষী গফুর বলেন, ‘একদিকে উৎপাদিত লবণের দাম না পেয়ে লোকসানে আছি, অন্যদিকে কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে লবণ, লবণ মাঠ ও পলিথিনের ক্ষয়ক্ষতি হয়ে পথে বসে যাচ্ছি।’

ধলঘাটার সুতরিয়ার বাসিন্দা লবণ চাষী কামাল জানান, কালবৈশাখীর তান্ডব শুরু হলে উৎপাদিত প্রায় ৬০ মণ লবণের টাল (স্তুুপ) রক্ষা করতে দৌঁড়ে এসেও রক্ষা করতে পারিনি। তাছাড়াও লবণ মাঠে অনেক ক্ষতি হয়েছে।

লবণ উৎপাদন করতে আরও কয়দিন সময় লাগে জানি না বলে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

চলতি মৌসুমে দেশে লবণের মোট চাহিদা রয়েছে ১৮ লাখ ৪৯ হাজার মেট্রিক টন। আর লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সাড়ে ১৮ লাখ মেট্রিক টন। ঝড়-বৃষ্টি না হলে আগামি মে মাস পর্যন্ত এই লবণ উৎপাদন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন চাষীরা।

হোয়ানক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, ‘হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি শুরু হওয়ায় চাষীরা মাঠে যাওয়ার আগেই বৃষ্টিতে লবণগুলো মাটির সাথে মিশে গেছে।’

তিনি জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে বোরো ধানেরও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বেশ কিছু কাঁচা বাড়ির ঘরের চালাও উড়ে গেছে।

এই পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ