গরুর জন্য জীবন বীমা!

গরুর জন্য জীবন বীমা!

সারাদেশ ডেস্ক
বিসিবিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকম

দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা সাতক্ষীরায় দুগ্ধশিল্পের সঙ্গে জড়িত খামারিদের বিনিয়োগ সুরক্ষায় গরুর জীবন বীমা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রাণ ডেইরি লিমিটেড এবং ফিনিক্স ইনস্যুরেন্সের যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এই বীমা কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

ফিড দ্য ফিউচার বাংলাদেশ লাইভস্টক প্রোডাকশন ফর ইম্প্রুভড নিউট্রিশন নামের এই প্রকল্প কার্যক্রম বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা করছে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এসিডিআই/ভোকা (যুক্তরাষ্ট্র)।

এ বিষয়ে এসিডিআই ও ভোকার মাঠ সমন্বয়কারি ডা. মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক বলেন, ‌‘বাংলাদেশে এই প্রথম সাতক্ষীরার দুগ্ধশিল্পের সঙ্গে জড়িত খামারিদের গরুতে বিনিয়োগ সুরক্ষায় গরুর জীবন বীমা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে শুধুমাত্র সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গাভা, ধুলিহর, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন ও তালা উপজেলার খলিষখালী, ইসলামিকাটি ও খলিলনগর ইউনিয়নের খামারিরা এই সুবিধা পাবেন। পরবর্তীতে আমরা অন্য উপজেলা ও জেলায় এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করব। চলতি মাসে আমাদের পাইলট প্রজেক্ট শেষ হচ্ছে। খুব দ্রুত দ্বিতীয় ফেজে কার্যক্রম শুরু হবে।’

তিনি বলেন, ‘৫০০ খামারিকে টার্গেট করা হলেও করোনা মহামারির কারণে এবার ৩৩৯ জন খামারির ৩৫০টি গরু এই বীমার আওতায় এসেছে। খুরা রোগসহ বিভিন্ন কারণে গরুর আকস্মিক মৃত্যু হলে ফিনিক্স ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড বীমাকারী গরুর আর্থিক দায়ভার বহন করবে এবং ১৫ দিনের মধ্যে গরুর ৯০ শতাংশ মূল্য খামারিকে পরিশোধ করবে।’

সদর উপজেলার গাভা ইউনিয়নের সুবিধাভোগী খামারি প্রভাস সরদার বলেন,‌ ‍‌‌‌‍‘আমার তিনটি গরুর জন্য দুই হাজার টাকা দিয়ে বীমা করেছি। তারা বলেছেন, গরুর কোন কোন অসুখ হলে চিকিৎসা খরচ দেবেন। যদি গরুর মৃত্যু হয় তাহলে গরুর দামের হিসেবে লাখ প্রতি ৯০ হাজার টাকা পাব। এখন দেখা যাক তারা আমাদের জন্য কী করে। তবে এটি চালু হলে সব খামারিদের উপকার হবে।’

সাতক্ষীরা প্রাণ চিলিং সেন্টারের ম্যানেজার মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা খামারিদের বীমা করতে গরুপ্রতি যে টাকা খরচ হচ্ছে তার ওপর ৪০% টাকা ভর্তুকির মাধ্যমে সহযোগিতা দিচ্ছি। এখন পর্যন্ত আমরা ৩২৬ খামারিকে ৩৪৯টি গরুর বীমা করতে সহযোগিতা করেছি। আগামীতেও আমাদের এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আশা করব, এর মধ্যে অন্য খামারিরা এই বীমা কার্যক্রমে যুক্ত হবেন।’

সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গবাদি পশুর নিরাপত্তায় দেশে এই প্রথম বীমা চালু হয়েছে। এই কার্যক্রমটি পুরোপুরি চালু হলে জেলার খামারিরা উপকৃত হবেন। পাশাপাশি নতুন নতুন খামার গড়ে উঠবে।’

এই পোর্টালে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই পাতার আরও সংবাদ